বন বিভাগের অভিযানে ৮৬০ কেজি শামুক উদ্ধার, চুনা নদীতে অবমুক্ত


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
বন বিভাগের অভিযানে ৮৬০ কেজি শামুক উদ্ধার, চুনা নদীতে অবমুক্ত

বিশেষ প্রতিনিধি :

 

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বন বিভাগের অভিযানে ৮৬০ কেজি শামুক উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের হাজির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় শামুকের বস্তাগুলো উদ্ধার করে বন টহল দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ওসি নির্মল বাবু।

 

বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকৃত শামুক চুনা নদীতে অবমুক্ত করেন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক। এ সময় বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ওসি নির্মল বাবু, স্টেশন টহল দলের সদস্যসহ রেঞ্জ কার্যালয়ের বন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

অবমুক্তকরণ কার্যক্রম শেষে সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই বন টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শামুকের বস্তাগুলো জব্দ করে। ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ পাচারকারীরা সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ করা এসব শামুক বাইরে পাঠানোর উদ্দেশ্যে মজুত করেছিল। তবে অভিযান টের পেয়ে সেগুলো ফেলে পালিয়ে যায়।

 

সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক বলেন, উদ্ধার অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। আমরা নিয়মিত সুন্দরবন ও এর আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করেছি। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় শামুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনের খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা, মৃত জৈব বর্জ্য অপসারণ এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রজাতি বিশেষ সহায়ক। তাই উদ্ধারকৃত শামুক দ্রুত তাদের প্রাকৃতিক আবাস নদীতে পুনঃ অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের শামুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বন ও জলজ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বন বিভাগ এই ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এই ধরনের অপতৎপরতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনকেন্দ্রিক অবৈধ বনজ ও বন্যপ্রাণী পাচার ঠেকাতে রেঞ্জ ও স্টেশন পর্যায়ে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, নদীপথে টহল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। বন অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের তথ্য সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।

 

সুন্দরবন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, শামুক পাচারের মতো পরিবেশবিরোধী অপরাধ রোধে রাত–দিন টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার। বন বিভাগও জানিয়েছে, তথ্য পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সুরক্ষা তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।